‘নতুন বাংলাদেশ’ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি: মাহফুজ আলম, সামনে ৯ দফা দাবি
রাষ্ট্র সংস্কার থেকে জ্বালানি, বিচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পরিবেশ—বিস্তৃত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ‘অল্টারনেটিভস’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে ধরনের ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অল্টারনেটিভস’-এর সংগঠক মাহফুজ আলম। তাঁর দাবি, সরকারের পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের কাঠামোগত অনেক পুরোনো ব্যবস্থা মোটাদাগে রয়ে গেছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, মানবাধিকার সুরক্ষা, জ্বালানি সংকটের সমাধানসহ ৯ দফা দাবি সামনে এনেছে প্ল্যাটফর্মটি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘দেশের অবস্থা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজ আলম এসব দাবি তুলে ধরেন। অল্টারনেটিভসের জাতীয় সাংগঠনিক কমিটির মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের পরও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
এক নজরে ৯ দফা
- রাষ্ট্র ও সংবিধানের কাঠামোগত সংস্কার
- জুলাই গণহত্যার বিচার ও অতীত মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি
- মানবাধিকার, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা
- বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব
- স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধনীতির সংস্কার
- নারীর অধিকার, বহুত্ববাদ ও সাংস্কৃতিক পরিসর নিশ্চিত করা
- শ্রম ও কৃষি খাতে সংস্কার
- শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের নতুন উদ্যোগ
- পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন
কেন আবার রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন তুলছে অল্টারনেটিভস?
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও অর্থনীতিতে সংস্কারের নানা আলোচনা সামনে আসে। তবে অল্টারনেটিভসের মূল্যায়ন হলো, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে শুধু সরকারের পরিবর্তন হয়েছে; রাষ্ট্র পরিচালনার পুরোনো কাঠামোর বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে।
সংগঠনটির বক্তব্যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা নতুন কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা কাঠামোর মাধ্যমে আবার ফিরে আসতে পারে। তাই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, সংগঠিত হওয়া এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহফুজ আলমের বক্তব্যের মূল সুর
শুধু সরকার বদল নয়, রাষ্ট্রের কাঠামো ও ক্ষমতার চর্চায় পরিবর্তন আনাই নতুন বাংলাদেশের জন্য জরুরি—অল্টারনেটিভসের ৯ দফা দাবির কেন্দ্রীয় বক্তব্য এটাই।
১. সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের দাবি
৯ দফার প্রথম দাবিতেই রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি রাখা হয়েছে। অল্টারনেটিভস চায়, সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো সংস্কারের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হোক। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সংগঠনটির দৃষ্টিতে রাজনৈতিক সংস্কারকে অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে আলাদা করে দেখলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব হবে না। তাই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
২. জুলাই গণহত্যার বিচার ও অতীতের ঘটনার স্বীকৃতি
দ্বিতীয় দাবিতে জুলাই গণহত্যার বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
শুধু তালিকা প্রকাশ নয়, এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকেও স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি রয়েছে।
বিচারের প্রশ্নে মূল দাবি
জুলাইয়ের সহিংসতার বিচার, অতীত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথি প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
৩. মানবাধিকার ও জবাবদিহিতে গুরুত্ব
তৃতীয় দাবিতে মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন এবং এসআরবি-সংক্রান্ত আইন কার্যকরের সময় মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অল্টারনেটিভসের বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
৪. বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের সমাধান চায় প্ল্যাটফর্মটি
৯ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। বর্তমান সংকট সমাধানের পাশাপাশি অতীতে করা কুইক রেন্টাল ও অসম বিদ্যুৎ-জ্বালানি চুক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে অল্টারনেটিভস।
এ ক্ষেত্রে আমদানি, বড় পুঁজিগোষ্ঠী ও বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জ্বালানি নীতিতে প্রস্তাব
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান
- কুইক রেন্টাল চুক্তি পর্যালোচনা
- অসম চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি
- আমদানি ও বিদেশি কোম্পানি-নির্ভরতা কমানো
- নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার
৫. স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধনীতিতে পরিবর্তন
স্বাস্থ্য খাতের জন্য দুটি অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে অল্টারনেটিভস। এগুলো হলো ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ–২০২৫’।
এর পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার, মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন নিশ্চিত করার এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
৬. নারী অধিকার ও সাংস্কৃতিক বহুত্বের দাবি
নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে ৯ দফায়। একই সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির কথা বলা হয়েছে।
অল্টারনেটিভস সাংস্কৃতিক পরিসরে আধিপত্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধেও উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজে মত ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।
৭. শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য কী চাওয়া হয়েছে?
শ্রম কমিশনের সুপারিশ এবং শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু, উৎপাদন বাড়ানো এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনঃকর্মসংস্থানের কথাও বলা হয়েছে।
কৃষি খাতেও একাধিক প্রস্তাব রয়েছে। সারসংকট সমাধানের পাশাপাশি কৃষকদের ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সরকারি পাটকল, চিনিকল ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
৮. শিক্ষা, চাকরি ও তরুণদের ভবিষ্যৎ
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পক্ষপাত বাদ দিয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতি চালুর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
তরুণদের জন্য প্রস্তাবিত অগ্রাধিকার
- নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
- দক্ষতা উন্নয়ন
- উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা
- স্বচ্ছ ও দলীয় পক্ষপাতমুক্ত নিয়োগ
- নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির সুরক্ষা
৯. পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন
৯ দফার শেষ দাবিটি পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে। প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন উন্নয়ন প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
বন্যা, নদীভাঙন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের জন্যও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
৯ দফার পেছনে রাজনৈতিক বার্তা কী?
অল্টারনেটিভসের ঘোষণাগুলো শুধু খাতভিত্তিক সংস্কারের তালিকা নয়; এর মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন নিয়েও একটি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। সংগঠনটি মনে করছে, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যে মৌলিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
এ কারণে তাদের দাবির একটি বড় অংশ জবাবদিহি, মানবাধিকার, স্বচ্ছ নিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ক্ষমতার কাঠামোকে কেন্দ্র করে। অন্য অংশে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, ওষুধ, চাকরি, শিক্ষা, কৃষি ও পরিবেশ—এসব বিষয়ে সরাসরি নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মূল্যায়ন: দাবি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও কম নয়
অল্টারনেটিভসের ৯ দফায় রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এগুলো বাস্তবায়নে শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক পরিকল্পনা, অর্থায়ন, আইনগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
বিশেষ করে জ্বালানি নীতি, শ্রম সংস্কার, শিক্ষা কমিশন, মানবাধিকার ও বিচার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাস্তবায়নের নিজস্ব জটিলতা রয়েছে। ফলে ৯ দফার দাবিগুলো এখন কতটা রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে সাড়া দেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
‘নতুন বাংলাদেশ’ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত
মাহফুজ আলমের নেতৃত্বাধীন অল্টারনেটিভসের এই ৯ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কতটা হয়েছে—সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। সংগঠনটি শুধু রাজনৈতিক কাঠামো নয়, অর্থনীতি থেকে পরিবেশ পর্যন্ত বিস্তৃত সংস্কারের দাবি তুলেছে।
এখন দেখার বিষয়, এসব প্রস্তাব রাজনৈতিক দল, সরকার, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে কতটা আলোচনার জন্ম দেয়। একই সঙ্গে দাবিগুলোর কোনগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং কোনগুলো দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অংশ হতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শেষ কথা
অল্টারনেটিভসের ৯ দফার কেন্দ্রীয় বার্তা হলো—জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, বিচার, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এখন সেই দাবিগুলো বাস্তব রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় কতটা জায়গা করে নেয়, সেটিই হবে পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

