১৮ বছরের নিচে নারীকে গর্ভবতী করলেই ২০ বছরের জেল

Avatar
মানচিত্র
22 Sep, 2026• 4 min read1 Views
১৮ বছরের নিচে নারীকে গর্ভবতী করলেই ২০ বছরের জেল
সংক্ষিপ্ত বিবরণ: পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা গর্ভধারণ ঠেকাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে এবং নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে POCSO ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় মামলা শুরু হয়েছে।

১৮ বছরের আগে বিয়ে, নাবালিকা গর্ভবতী হলে কড়া ব্যবস্থা, POCSO নিয়ে শুভেন্দুর বড় ঘোষণা

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা গর্ভধারণের ঘটনা ঠেকাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৮ বছরের নিচে কোনও মেয়ের বিয়ে হলে সংশ্লিষ্ট স্বামী, পরিবারের সদস্য, অভিভাবক এবং বিয়েতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি অনুযায়ী Prohibition of Child Marriage Act, 2006 এবং Protection of Children from Sexual Offences Act, 2012 বা POCSO আইনে মামলা হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে রাজ্যজুড়ে কঠোর নজরদারি ও পদক্ষেপের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নাবালিকা বিয়ে এবং ১৮ বছরের নিচে সন্তান প্রসবের ঘটনাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে পুলিশের মামলা করার খবরও সামনে এসেছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ভারতের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম এবং ছেলের বয়স ২১ বছরের কম হলে তাকে শিশুর সংজ্ঞার মধ্যে ধরা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দ্বারা বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা দুটিই হতে পারে। বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা তাতে সহায়তার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

কেন নতুন করে নজরে বাল্যবিবাহ?

রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা মেয়েদের প্রসবের বিপুল সংখ্যক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী মাতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যাটি প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৬৭ হাজারের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য উদ্ধৃত করে The Statesman জানিয়েছে, এই ছয় মাসে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকা গর্ভধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।

জেলাভিত্তিক তথ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদে সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি বলে জানানো হয়েছে। এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমানের নাম এসেছে। The Indian Express এবং The Statesman দুই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই রাজ্য সরকারের এই তথ্য ও পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮ বছরের নিচে বিয়ে হলে কী হতে পারে?

ভারতের Prohibition of Child Marriage Act, 2006 অনুযায়ী, মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে এবং ছেলের বয়স ২১ বছরের কম হলে তাকে শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বয়সের আগে বিয়ে হলে সেটি বাল্যবিবাহ হিসেবে আইনের আওতায় আসে।

আইনের ৯ নম্বর ধারায় ১৮ বছরের বেশি বয়সি কোনও পুরুষ কোনও শিশুকে বিয়ে করলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা দুটিই হতে পারে।

শুধু বর নয়, বিয়ের আয়োজন বা সম্পাদনে সহায়তাকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আইনের ১০ নম্বর ধারায় বাল্যবিবাহ সম্পাদন, পরিচালনা বা তাতে সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

অভিভাবক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাল্যবিবাহে উৎসাহ দিলে, অনুমতি দিলে অথবা তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

আইনে কী বলা আছে?

  • মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে বাল্যবিবাহের আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়।
  • ছেলের ক্ষেত্রে সীমা ২১ বছর।
  • প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বাল্যবিবাহে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
  • সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
  • বিয়েতে সহায়তাকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হতে পারে।
  • বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত অপরাধগুলো আইনের অধীনে গুরুতরভাবে বিবেচিত হয়।

নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হলে POCSO কেন প্রযোজ্য?

১৮ বছরের নিচে প্রত্যেক ব্যক্তিকে POCSO আইনে শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে, ঘটনাটির পরিস্থিতি অনুযায়ী POCSO আইনের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

POCSO আইনের ৩ নম্বর ধারায় penetrative sexual assault-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং ৪ নম্বর ধারায় তার শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন, শিশুর বয়স এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে শাস্তির মাত্রা নির্ধারিত হয়। গুরুতর aggravated penetrative sexual assault-এর ক্ষেত্রে ৫ ও ৬ নম্বর ধারার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

এই কারণেই কোনও নাবালিকাকে বিয়ে করা হয়েছে বলেই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক আইনসিদ্ধ হয়ে যায় না। বিয়ের বিষয়টি আলাদা আইনি প্রশ্ন এবং নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ হলে POCSO আইনের বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

নাবালিকা গর্ভবতী হলে কী হবে?

নাবালিকার গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের ঘটনা সামনে এলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতে পারে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত এবং মামলা করা হবে।

সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবালিকা গর্ভধারণের ঘটনায় স্বামী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে POCSO আইনের অধীনে মামলা হতে পারে। তবে শুধু গর্ভধারণ হয়েছে বলেই প্রতিটি ঘটনায় একই শাস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না। কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তে পাওয়া তথ্য, শিশুর বয়স, অপরাধের প্রকৃতি এবং আদালতে প্রমাণিত ঘটনার ওপর।

POCSO আইনের নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সরাসরি এমনভাবে লেখা ঠিক নয় যে, “নাবালিকাকে গর্ভবতী করলেই মৃত্যুদণ্ড হবে”। আইনের নির্দিষ্ট ধারা ও অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত হয়।

স্বামী, পরিবার থেকে পুরোহিত বা কাজি, কেউ বাদ নয়

বাল্যবিবাহের ঘটনায় শুধু বরকে দায়ী করা হবে না বলেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিয়েতে সহযোগিতা করা পরিবারের সদস্য, অভিভাবক এবং বিয়ে সম্পাদনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Indian Express জানিয়েছে, বাল্যবিবাহে জড়িত স্বামীদের বয়সের প্রমাণ দিতে শোকজ নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিয়ের সময় স্ত্রী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তা প্রমাণ করার জন্য জন্মের নথি, স্কুলের সার্টিফিকেট বা অন্যান্য বৈধ নথি দিতে হতে পারে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে বাল্যবিবাহ শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে।

হাসপাতাল থেকেও পুলিশের কাছে যেতে পারে তথ্য

নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে হাসপাতালে প্রসবের জন্য এলে ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসতে পারে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবালিকা প্রসবের ঘটনা সামনে এলে হাসপাতাল ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুলিশকে তথ্য জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর বয়স, বিয়ে এবং গর্ভধারণের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু হতে পারে।

এভাবেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার তথ্য ব্যবহার করে নাবালিকা মাতৃত্ব এবং বাল্যবিবাহের ঘটনাগুলো শনাক্ত করার দিকে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় মামলা

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। The Statesman-এর ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুলিয়ায় দুই দিনে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা গর্ভধারণ সংক্রান্ত মোট ২৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা POCSO আইনে এবং কয়েকটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে নাবালিকা গর্ভবতীদের উপস্থিতির পর বিষয়গুলো প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়। কিছু ঘটনায় কথিত স্বামীদের বিরুদ্ধে POCSO আইনের ৪ ও ৬ নম্বর ধারায় এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুরুলিয়ায় ২৫ মামলা

২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে The Statesman জানিয়েছে, পুরুলিয়ায় দুই দিনে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা গর্ভধারণের ঘটনায় ২৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে POCSO আইনে ৮টি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে ৭টি মামলা করা হয়েছিল এক দিনে। পরের দিন আরও ১০টি মামলা নথিভুক্ত হয়।

কলকাতায় POCSO ও বাল্যবিবাহ আইনে প্রথম যৌথ সাজা

এই অভিযান চলার মধ্যেই কলকাতা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। Times of India-এর ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিয়ালদহের একটি বিশেষ POCSO আদালত ৩০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে POCSO আইন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছে। মামলাটি একটি নাবালিকা স্ত্রী সন্তান প্রসব করার পর সামনে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৫ সালের চিৎপুর থানা এলাকার। অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তি নাবালিকার বয়স গোপন করে তাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় তার বয়স সংক্রান্ত তথ্য সামনে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।

Times of India জানিয়েছে, কলকাতায় একই ঘটনায় POCSO এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, দুই আইনের অধীনে একসঙ্গে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা হিসেবে এটিকে পুলিশ উল্লেখ করেছে। আদালত পরবর্তী পর্যায়ে শাস্তির পরিমাণ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছিল।

সরকারি সুবিধা বন্ধের হুঁশিয়ারি

বাল্যবিবাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি মামলা নয়, সরকারি সুবিধা নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সরকারি ভাতা ও সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

তবে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে প্রশাসনিক ঘোষণা, পুলিশি মামলা এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত হওয়া, এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।

বাল্যবিবাহ রোধে নতুন করে চাপ প্রশাসনের ওপর

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে স্বাস্থ্য দফতর, পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাবালিকা গর্ভধারণের ঘটনা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা হলেও এর সঙ্গে সরাসরি আইনি দায় জড়িত। ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া শুধু সামাজিক রীতি বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।

আইনের মূল কথা কী?

  • মেয়ের বৈধ বিবাহের বয়স: ১৮ বছর।
  • ছেলের বৈধ বিবাহের বয়স: ২১ বছর।
  • বাল্যবিবাহে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়ই।
  • বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা সহায়তা: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
  • নাবালিকার সঙ্গে যৌন অপরাধ: পরিস্থিতি অনুযায়ী POCSO আইনের বিভিন্ন ধারা প্রযোজ্য হতে পারে।
  • গুরুতর POCSO অপরাধ: আইনের নির্দিষ্ট ধারায় দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর নজর এখন বাস্তব প্রয়োগে

বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর আইন ভারতে নতুন নয়। নতুন বিষয় হলো, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালভিত্তিক তথ্য, শোকজ নোটিশ, পুলিশি তদন্ত এবং জেলা পর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে বিষয়টিকে আরও সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছে।

ঘোষণার পর পুরুলিয়ায় একাধিক মামলা এবং কলকাতায় POCSO ও বাল্যবিবাহ আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে যে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেও প্রবেশ করেছে। তবে প্রতিটি মামলায় অভিযোগ, তদন্তের ফল এবং আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

শেষ কথা

১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে এবং নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতন ভারতের আইনে গুরুতর বিষয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন এই ধরনের ঘটনা শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর জেলায় জেলায় মামলা শুরু হয়েছে এবং কলকাতায় একটি মামলায় ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। আগামী দিনে এই কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন নজরে।

সূত্র: ABP Ananda, The Indian Express, The Statesman, Telegraph India, Aaj Tak Bangla, Millennium Post, Times of India এবং India Code-এ প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট আইন ও সংবাদ প্রতিবেদন।

আইন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ তথ্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট মামলায় কোন ধারা প্রযোজ্য হবে এবং কী শাস্তি হবে, তা তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

Tags: # ভারত # পশ্চিমবঙ্গ # কলকাতা # BJP
Avatar

মানচিত্র

Administrator of News Mancitro

Reader Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your opinion!