রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে বিষধর কালাচ সাপে কামড় দেওয়ার ঘটনায় হল প্রভোস্টের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- দ্রুত স্নেক নেট স্থাপন, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, খাবারের মানোন্নয়ন, ওয়াশরুম পরিষ্কার এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের সিটসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান।
বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই’, ‘জঙ্গলমুক্ত হল চাই’, ‘সিট নিয়ে প্রহসন বন্ধ কর’, ‘খাবারের মান বৃদ্ধি কর’, ‘ওয়াশরুম পরিষ্কার কর’ এবং ‘কতজন মরলে হল প্রশাসনের টনক নড়বে’ এমন স্লোগান লেখা পোস্টার ও লিফলেট দেখা যায়।
শহীদ শামসুজ্জোহা হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পানি জমে থাকে এবং ড্রেন দিয়ে সাপ হলে ঢোকে। হলের চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কারেও পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। স্নেক নেট স্থাপনের দাবি জানানো হলেও নিম্নমানের নেট দেওয়ায় তা বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হল সংসদের জিএস সোয়াইব হোসেন বলেন, হলে এর আগেও সাপ বের হয়েছে। তখন হল প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হলের চারপাশের জঙ্গল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এসএম সালমান সাব্বিরসহ অন্যরা।
ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রুমের ভেতরে যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকতে না পারে, তাহলে আমাদের একটাই প্রশ্ন—হল প্রশাসন সেখানে কী করে। আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানাচ্ছি।
এর আগে রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবী ইসলামকে কালাচ সাপে কামড় দেয়।
নুরনবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সাপে কামড় দেওয়ার পর প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে ২৪ ঘন্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

