কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (SRB-15)। শনিবার দক্ষিণ লম্বরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।
মোট উদ্ধার: ১৭ জন
বান্দরবানের লামা: ৭ জন
কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা: ১০ জন
উদ্দেশ্য বলে প্রাথমিক ধারণা: সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানো
SRB-15-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসএম ফারুক জানান, একটি সংগঠিত মানবপাচারকারী চক্র দক্ষিণ লম্বরি এলাকার একটি বাড়িতে কয়েকজনকে জড়ো করেছে বলে তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।
পরে বাড়িটি তল্লাশি করে ১৭ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাচারের উদ্দেশ্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
কীভাবে সেখানে নেওয়া হয়েছিল?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাচারকারীরা এভাবে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া ১৭ জনের মধ্যে সাতজন বান্দরবানের লামা উপজেলার বাসিন্দা। অন্য ১০ জন কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, সদর ও টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে SRB-15।
অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন পাচারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে SRB-15।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মালয়েশিয়ায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে পাঠানোর চেষ্টা নিয়ে টেকনাফ এলাকায় এর আগেও একাধিক অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চলতি বছর মার্চেও টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায় যৌথ অভিযানে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল কোস্ট গার্ড।
১৭ জনকে উদ্ধারের ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন। তাই পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আদালত বা তদন্তে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।

