বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই আলোচনায় ছিলেন। ২০১৯ সালে ভারতের সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’য় অংশ নেওয়ার পর দুই বাংলায় তাঁর পরিচিতি দ্রুত বাড়ে। জনপ্রিয়তার সঙ্গে বাড়তে থাকে আয়ও। একপর্যায়ে মাসে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতেন বলে জানিয়েছেন নোবেল।
তবে অল্প বয়সে পাওয়া সেই বিপুল অর্থ ও জনপ্রিয়তা সামলে উঠতে পারেননি বলে এখন নিজেই স্বীকার করছেন এই শিল্পী। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত টাকা তাঁকে অস্থির করে তুলেছিল এবং একসময় তিনি বেখেয়ালি জীবনে জড়িয়ে পড়েন।
‘সারেগামাপা’র পর জনপ্রিয়তার সময় কোনো কোনো মাসে ৪০ থেকে ৫০ লাখ, আবার কখনো ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতেন বলে জানিয়েছেন নোবেল।
‘সারেগামাপা’র পর বদলে যায় জীবন
নোবেলের সংগীতচর্চার শুরু ‘সারেগামাপা’ দিয়ে নয়। ছোটবেলায় বাবার আনা ক্যাসেট শুনে আইয়ুব বাচ্চু, জেমস ও হাসানের গান গাইতেন তিনি। পরে ২০১৬ সালে গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ২০১৯ সালের ‘সারেগামাপা’ নোবেলের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। প্রতিযোগিতাটিতে তৃতীয় স্থান অর্জনের পর তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে দুই বাংলায়। এরপর মৌলিক গান ও চলচ্চিত্রের গানেও কাজ করেন তিনি।
অল্প বয়সে বিপুল অর্থ ও জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর তা সামলাতে পারেননি। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই অর্থ তাঁকে অস্থির করে তুলেছিল।
‘টাকা আমার মাথা খারাপ করে তোলে’
নিজের অতীতের কথা বলতে গিয়ে নোবেল জানিয়েছেন, সেই সময় বিপুল অর্থ তাঁর জীবনযাপনে বড় প্রভাব ফেলেছিল। অর্থ ও জনপ্রিয়তার চাপ সামলাতে না পেরে একপর্যায়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নোবেলের দাবি, এমন সময়ও গেছে যখন তাঁর ব্যাংক হিসাবে কয়েক কোটি টাকা ছিল। কিন্তু সেই অর্থ তাঁর জন্য স্বস্তির বদলে অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নোবেলের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়
- ২০১৬ সালে গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত
- ২০১৯ সালে ‘সারেগামাপা’য় অংশগ্রহণ
- ‘সারেগামাপা’য় তৃতীয় স্থান অর্জন
- পরবর্তীতে মৌলিক ও চলচ্চিত্রের গানে কাজ
- জনপ্রিয়তার সময় মাসে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়
এখন অনেকটাই বদলেছেন নোবেল
অতীতের সেই জীবন থেকে এখন অনেকটাই দূরে থাকার দাবি করেছেন নোবেল। তাঁর ভাষ্য, গত ১০ মাসে জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ছেলের জন্মের পর থেকেই এই পরিবর্তনের শুরু।
এখন গান এবং ছেলেকে ঘিরেই তাঁর সময় কাটছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।
অতীত পেছনে ফেলে নতুনভাবে এগোতে চান নোবেল
একসময় দ্রুত জনপ্রিয়তা, বিপুল আয় এবং নানা কারণে আলোচনায় থাকা নোবেল এখন নিজের জীবনের পরিবর্তনের কথা বলছেন। তাঁর বর্তমান বক্তব্যে সংগীতচর্চা ও পরিবারই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

