শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে বাংলাদেশ।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ সমঝোতা স্মারকটিতে সই করেন।
পারমাণবিক শক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য
চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আরও গভীর করা।
সমঝোতা স্মারকে দুই দেশ পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাহলে কি এটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এটি সরাসরি নতুন কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি নয়।
সমঝোতাটি মূলত বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট সহযোগিতা বাড়ানোর কাঠামো তৈরি করছে। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ইতোমধ্যে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন।
চুক্তির ধরন: কৌশলগত সমঝোতা স্মারক
সহযোগিতার ক্ষেত্র: বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি
স্বাক্ষর: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থান: নিউইয়র্ক
মূল গুরুত্ব: পারমাণবিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতা
নিরাপত্তার বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সমঝোতায় দুই দেশই পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সেফগার্ডস ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি (NPT)-এর সদস্য।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব কোথায়?
বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির উৎস বাড়ানো ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতাটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন পদক্ষেপ।
নতুন সমঝোতার বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের কারিগরি, বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা তৈরি হয় তার ওপর।
পারমাণবিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সমঝোতাকে এখনই নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সমঝোতার মূল বিষয় হলো শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা।

