আখতারুজ্জামানকে মুক্তির দাবি শফিকুর রহমানের, ‘সাজানো মামলা’ প্রত্যাহারের আহ্বান
ঢাকা: বিমানবন্দরকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘সাজানো মামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তার বক্তব্যে তিনি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে কাউকে নাজেহাল করার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ঘটনাটিকে ঘিরে বিমানবন্দরের অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি সামনে আনেন।
- মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
- তার বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘সাজানো মামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াত আমির।
- শফিকুর রহমানের দাবি, আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি।
- বিমানবন্দরের অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
- অন্যদিকে মামলায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে যা বললেন শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা এ ধরনের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। এ বিষয়ে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ছিল বলেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আখতারুজ্জামান মূলত যাত্রী হয়রানি এবং বিদেশ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের অনিয়ম, যাত্রী হয়রানি ও অসংগতিকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে যদি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগজনক। তিনি এ ঘটনাকে ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কী ঘটেছিল শাহজালাল বিমানবন্দরে?
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে।
মামলার এজাহার সূত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে একটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয় এবং লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে যান। এরপর আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও মামলায় থাকার কথা জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়। আজকের পত্রিকা মামলার এজাহারের তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ প্রকাশ করেছে। 1
গ্রেপ্তারের বিষয়টি কীভাবে সামনে আসে
২ অক্টোবর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মামলায় তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করেছে। 2
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মামলার অভিযোগের বর্ণনায় সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের বিষয় এসেছে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করা হয়েছে। 3
তবে ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি এবং অভিযোগটি মিথ্যা। ফলে একই ঘটনার বিষয়ে একদিকে মামলার অভিযোগ এবং অন্যদিকে শফিকুর রহমানের প্রকাশ্য বক্তব্য রয়েছে।
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা নিয়ে প্রশ্ন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলি সংকটের কথা এসেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে মামলার এজাহারভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 4
শফিকুর রহমান তার পোস্টে এই বিষয়টিকেই বিশেষভাবে সামনে এনেছেন। তার বক্তব্য, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বক্তব্যটি তার নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও ঘটনার ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
‘সাজানো মামলা’ মন্তব্য নিয়ে আলোচনা
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাকে ডা. শফিকুর রহমান ‘সাজানো মামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি তার রাজনৈতিক বক্তব্য; মামলাটি সত্যিই সাজানো কি না, তা স্বাধীন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মামলার অভিযোগ এবং শফিকুর রহমানের বক্তব্য দুই দিক থেকেই উঠে এসেছে। ফলে ঘটনাটির পরবর্তী তদন্ত, মামলার আইনি কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এ বিষয়ে আরও তথ্য দিতে পারে।
এই প্রতিবেদনে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। এগুলো মামলার অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে শফিকুর রহমানের ‘অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং ‘সাজানো মামলা’ বক্তব্যও তার নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্যও উঠে এসেছে।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 5
এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মামলায় তার গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রকাশ্য বক্তব্য সেই প্রতিক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের তাৎপর্য
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে শুধু আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানাননি, বরং বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, বিমানবন্দরের অনিয়ম বা যাত্রী হয়রানির বিষয় আড়াল করার উদ্দেশ্যে যদি গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা উদ্বেগের বিষয়।
অন্যদিকে, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সরকারি কাজে বাধা এবং কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঘটনাটি এখন একই সঙ্গে একটি আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসার কথা। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক নজরে
- ঘটনাস্থল: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
- অভিযুক্ত: মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান
- অভিযোগ: সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ
- গ্রেপ্তার: ২ অক্টোবর ২০২৬
- প্রতিক্রিয়া: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি করেছেন
- শফিকুর রহমানের বক্তব্য: অভিযোগকে মিথ্যা এবং মামলাকে ‘সাজানো’ বলে উল্লেখ করেছেন
সূত্র: প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ও ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 6

