রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্যকে আটক করেছে পুলিশ।
- তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- স্থান: জাসদের প্রধান কার্যালয়, গুলিস্তান
- সময়: দুপুর আনুমানিক আড়াইটা
- আটকের পর: পল্টন থানায় নেওয়া হয়
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে আবু জাফর সূর্যকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশ ভ্যানে করে পল্টন থানায় নেওয়া হয়। একই সময় জাসদের কার্যালয় থেকে আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জাসদের কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির খবরের পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের পল্টন থানায় নিয়ে পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে যা বললেন সূর্য
আটকের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হাতকড়া পরা একটি ছবি প্রকাশ করে ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন আবু জাফর সূর্য।
“আজ জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আমাকে সহ অনেককে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমি জানি না। পল্টন থানায় আছি।”
তার এই বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাকে ও অন্যদের হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ নিয়ে যায়। পরে তিনি পল্টন থানায় থাকার কথা জানান। তার ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত ছবিতেও তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখা যায়।
পুলিশ বলছে, জাসদ কার্যালয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে সূর্য দাবি করেছেন, তিনি সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আটক হয়েছেন। দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের তথ্য এখনো অপেক্ষমাণ।
গ্রেপ্তার নাকি আটক?
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে আবু জাফর সূর্যকে “আটক” করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে কোনো মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই এ মুহূর্তে তাকে “গ্রেপ্তার” না বলে “আটক” বলা অধিক নির্ভুল।
এই প্রতিবেদনে পুলিশ ও আবু জাফর সূর্যের নিজস্ব বক্তব্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন আইনগত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

