ইউপি নির্বাচন নিয়ে আজ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক, চূড়ান্ত হতে পারে ভোটের সময়সূচি
১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ভোটের প্রাথমিক পরিকল্পনা, আজ বৈঠকে সিদ্ধান্ত
এক নজরে
- আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক: ১৭ সেপ্টেম্বর
- প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট: ১২ নভেম্বর
- প্রস্তাবিত ধাপ: ৭টি
- প্রথম ধাপে সম্ভাব্য উপজেলা: ৮০টি
- প্রস্তাবিত শেষ ধাপ: ২৭ মে ২০২৭
ঢাকা: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন এর আগে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর ভোট শুরু করার কথা বলা হয়। তবে ইসি স্পষ্ট করেছে, এটি এখনো চূড়ান্ত তফসিল নয়।
আজকের বৈঠকেই হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে।
প্রস্তাবিত সাত ধাপের সময়সূচি
| ধাপ | সম্ভাব্য তারিখ |
|---|---|
| প্রথম | ১২ নভেম্বর ২০২৬ |
| দ্বিতীয় | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| তৃতীয় | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| চতুর্থ | ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ |
| পঞ্চম | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ |
| ষষ্ঠ | ২২ এপ্রিল ২০২৭ |
| সপ্তম | ২৭ মে ২০২৭ |
প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ভোটের পরিকল্পনা
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বড় জেলার ক্ষেত্রে বেশি সংখ্যক উপজেলা প্রথম ধাপে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে আইন অনুযায়ী ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠানের যোগ্য হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চূড়ান্ত তফসিল নিয়ে এখনও আলোচনা
ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সরকার ও মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আগে অবহিত করা হয়নি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের খবরের মাধ্যমে সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে জানতে পেরেছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রকাশিত সময়সূচি ছিল প্রাথমিক। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন হবে, তবে কখন, কোন পদ্ধতিতে এবং কোন পর্যায়ে ভোট হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
১২ নভেম্বরসহ সাত ধাপে ভোটের তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত তফসিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। আজকের বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের মতামতের পর সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও মতবিনিময়ের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী সামগ্রীর প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। আগস্টে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন
দীর্ঘ সময় পর ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় নির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে কখন ভোট হবে, তা নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন নিয়েও আলোচনা
আজকের বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ায় আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এর আগে এই আসনে ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।
এখন নজর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রকাশের পর আজকের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের মতামত পাওয়ার পর কমিশন চূড়ান্ত সময়সূচি জানাবে।
তাই ১২ নভেম্বর থেকে ভোট শুরু হবে কি না, নাকি প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনায় তারিখ পরিবর্তন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সংসদ, BSS, bdnews24.com, The Daily Star, The Business Standard, Dhaka Tribune ও Prothom Alo।
প্রতিবেদন: মানচিত্র ডেস্ক

