১১ বছর বয়সেই এশিয়ান গেমসে সোনা, ইউকি কুরিহারার অবিশ্বাস্য কীর্তি
মাত্র ১১ বছর বয়স। অথচ এই বয়সেই এশিয়ান গেমসের মঞ্চে সোনা জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন জাপানের ইউকি কুরিহারা।
জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ই-স্পোর্টসের পাজল গেম পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন ১১ বছর বয়সী ইউকি কুরিহারা। ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দং-শিনকে ১০-২ ব্যবধানে হারিয়ে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
এক নজরে ইউকির সাফল্য
- নাম: ইউকি কুরিহারা
- দেশ: জাপান
- বয়স: ১১ বছর
- ইভেন্ট: পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস
- ফাইনালের ফল: জাপান ১০-২ দক্ষিণ কোরিয়া
- পদক: স্বর্ণ
ফাইনালে শুরুটা ভালো ছিল না
স্বর্ণের লড়াইয়ে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়ে যান ইউকি। দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দং-শিন প্রথম সেট জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। তবে এরপর আর প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেননি জাপানের এই খুদে তারকা। দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
ফাইনালের আগে সেমিফাইনালেও ইউকির দাপট দেখা গেছে। সেখানে থাইল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সী থানারাক ওয়ংকিতকুনকে ১০-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।
সবচেয়ে কম বয়সী স্বর্ণজয়ী
ইউকিকে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী স্বর্ণপদকজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ইন্দোনেশিয়ার ১২ বছর বয়সী স্কেটবোর্ডার বুংগা নিমাস ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ইউকির বয়স তার চেয়েও এক বছর কম।
ছোটবেলা থেকেই পুইও পুইওর সঙ্গে পরিচয়
ইউকির গেমিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ছোটবেলাতেই। ছয় বছর বয়সে উপহার হিসেবে পাওয়া পুইও পুইও টেট্রিস ২ খেলার মাধ্যমে এই গেমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
পুইও পুইও মূলত একটি পাজল গেম। খেলোয়াড়কে একই রঙের চরিত্র বা বল পরপর সাজিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, সঠিক সময়ে চাল দেওয়া এবং একাধিক কম্বিনেশন তৈরি করা এই গেমে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
প্রতিপক্ষরা ছিলেন বয়সে অনেক বড়
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ইউকির সবচেয়ে বড় চমক ছিল তার বয়স। যেখানে তার অনেক প্রতিপক্ষই প্রাপ্তবয়স্ক, সেখানে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি একের পর এক ম্যাচ জিতে এগিয়ে যান।
দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দং-শিনও ইউকির চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু বয়সের পার্থক্য কোনোভাবেই ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফাইনালে শুরুতে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ইউকির আক্রমণাত্মক ও ধারাবাহিক খেলায় পরাজিত হন কাং।
জয়ের পর ইউকির প্রতিক্রিয়া
স্বর্ণপদক জয়ের পরও ইউকির উদযাপন ছিল বেশ শান্ত। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, জয়ের পর কিছুটা লজ্জা লাগছিল বলে মুখের অভিব্যক্তি খুব বেশি পরিবর্তন করতে পারেননি।
তবে হাতে স্বর্ণপদক ওঠার পর নিজের আনন্দ লুকাননি এই খুদে খেলোয়াড়। পদকটি সুন্দর, চকচকে এবং ভারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এশিয়ান গেমসে ই-স্পোর্টসের নতুন অধ্যায়
এশিয়ান গেমসে ই-স্পোর্টস প্রথমবারের মতো পদক ইভেন্ট হিসেবে জায়গা পায় ২০২৩ সালের হাংঝু আসরে। এবার আইচি-নাগোয়া গেমসে ইউকির মতো তরুণ প্রতিভার সাফল্য ই-স্পোর্টসের জনপ্রিয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
রেকর্ড গড়ে নতুন তারকার উত্থান
মাত্র ১১ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জিতে ইউকি কুরিহারা শুধু জাপানকেই গর্বিত করেননি, ই-স্পোর্টসের মঞ্চেও নিজের নাম আলাদা করে তুলে ধরেছেন। বড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমন সাফল্য তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
একদিকে স্কুলের পড়াশোনা, অন্যদিকে নিয়মিত অনুশীলন। এই দুইয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউকি যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে এশিয়ান গেমসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: জাপান অলিম্পিক কমিটি, CNA, Al Jazeera, Japan Times, UNB, Associated Press এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।

