পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ
কলাপাড়ায় আহত ৬৭ বছরের শাহ আলম মোল্লা, উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানেও জখম হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি মো. শাহ আলম মোল্লা (৬৭)। তিনি বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।
আহত শাহ আলমকে প্রথমে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ডান পায়ের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার মূল তথ্য
- স্থান: চৌরাস্তা এলাকা, বালিয়াতলী ইউনিয়ন, কলাপাড়া
- সময়: শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে
- আহত: শাহ আলম মোল্লা, বয়স ৬৭ বছর
- পদ: বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি
- আঘাত: মাথা, শরীর ও ডান পায়ে
- চিকিৎসা: প্রথমে কলাপাড়া, পরে বরিশালে স্থানান্তর
বাজারে যাওয়ার পথে হামলার অভিযোগ
শাহ আলম মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি পারিবারিক দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানের জন্য কেনাকাটা করতে তিনি বালিয়াতলীর চৌরাস্তা বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানেই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। একপর্যায়ে গাছের একটি গুঁড়ি দিয়ে তাঁর ডান পায়ে আঘাত করা হয়। এতে পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর চোট লাগে।
শাহ আলমের পরিবারের একজন সদস্যের অভিযোগ, হামলায় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিলেন এবং তাঁরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমানের অনুসারী। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মজিবুর রহমান।
অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য
শাহ আলমের পরিবারের দাবি: স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাঁকে মারধর করেছেন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি পক্ষের লোকজন এ ঘটনায় জড়িত।
মজিবুর রহমানের বক্তব্য: তাঁর কোনো লোক এই হামলায় জড়িত নয়। কারা হামলা করেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা যা জানিয়েছেন
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা পলি সাহা জানিয়েছেন, শাহ আলমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তাঁর ডান পায়ের আঘাত তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর। এ কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
হামলার পর স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত—তা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।
পুলিশের অবস্থান
ঘটনার খবর পাওয়ার পর কলাপাড়া থানার পুলিশ আহত শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি পদক্ষেপ এখনো অভিযোগনির্ভর
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে নতুন উত্তেজনা
ঘটনাটিতে আহত ব্যক্তি একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিএনপি নেতা তা অস্বীকার করেছেন।
এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হামলায় কারা অংশ নিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনাটির সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
পরিবারের অভিযোগের পর কী হবে?
শাহ আলমের পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো আহত শাহ আলমের চিকিৎসা। তাঁর ডান পায়ের আঘাতের জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকে বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শেষ কথা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মোল্লাকে মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান তা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পর্যায়ে তথ্য নেওয়ার পর পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য, চিকিৎসকের তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য।

