কবরী থেকে মেহজাবীন: ক্যারিয়ারের শুরুতে কে কত পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন?
আজ যাঁদের নামের সঙ্গে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক জড়িত, তাঁদের অনেকের অভিনয়জীবনের শুরু হয়েছিল খুব ছোট অঙ্কের আয় দিয়ে
দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই ক্যারিয়ারের শুরুতে আজকের মতো বড় পারিশ্রমিক পাননি। কেউ প্রথম অভিনয় করে পেয়েছেন মাত্র ১০ টাকা, আবার কারও প্রথম কাজের সম্মানী ছিল ১৫ হাজার বা এক লাখ টাকা। সময়, মাধ্যম ও কাজের ধরন অনুযায়ী এই পারিশ্রমিকের ব্যবধানও ছিল বেশ বড়।
কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী, রোজিনা, পূর্ণিমা, মেহজাবীন চৌধুরী ও কেয়া পায়েলের শুরুর দিকের পারিশ্রমিকের গল্পগুলো শুধু অর্থের হিসাব নয়; এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁদের অভিনয়জীবনের প্রথম অধ্যায়।
এক নজরে প্রথম পারিশ্রমিক
- কবরী: ১,১১১ টাকা
- রোজিনা: ১০ টাকা
- পূর্ণিমা: ১ লাখ টাকা
- মেহজাবীন চৌধুরী: ১৫ হাজার টাকা
- কেয়া পায়েল: ১০ হাজার টাকা
কবরীর প্রথম পারিশ্রমিক ১,১১১ টাকা
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় নাম সারাহ বেগম কবরী। অভিনয়জীবনের শুরুতেই তিনি সুযোগ পান সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতরাং’ সিনেমায়। ১৯৬৪ সালে নির্মিত সেই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন তিনি।
‘সুতরাং’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম সিনেমার জন্য কবরী পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ১ হাজার ১১১ টাকা। পাওয়া অর্থ তিনি নিজের কাছে না রেখে বাবার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
কবরী → প্রথম পারিশ্রমিক: ১,১১১ টাকা
রোজিনার প্রথম আয় মাত্র ১০ টাকা
আজকের পরিচিত অভিনেত্রী রোজিনার অভিনয়ে আসার গল্পটিও বেশ আকস্মিক। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পরিকল্পনা করে প্রথম সিনেমায় নাম লেখাননি তিনি। একবার সংসদ ভবন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে একটি শুটিং দেখতে পান। সেখান থেকেই আসে অভিনয়ের সুযোগ।
‘জানোয়ার’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রার শুরু। সেই প্রথম অভিনয়ের জন্য রোজিনা পেয়েছিলেন মাত্র ১০ টাকা। পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন।
আজকের দৃষ্টিতে ১০ টাকা খুবই সামান্য মনে হলেও, রোজিনার কাছে তখন সেটিই ছিল অভিনয় থেকে পাওয়া প্রথম উপার্জন—যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সূচনার সঙ্গে স্মৃতির মতো জড়িয়ে আছে।
রোজিনা → প্রথম পারিশ্রমিক: ১০ টাকা
পূর্ণিমার শুরুতেই এক লাখ টাকা
অন্যদিকে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল আর্থিক দিক থেকে বেশ আলাদা। ১৯৯৭ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।
প্রথম সিনেমাতেই পূর্ণিমা পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ১ লাখ টাকা। সেই অর্থ তিনি মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে এবং তিনি দেশের অন্যতম পরিচিত চিত্রনায়িকায় পরিণত হন।
পূর্ণিমা → প্রথম পারিশ্রমিক: ১ লাখ টাকা
মেহজাবীনের প্রথম নাটকে আয় ১৫ হাজার
টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর অভিনয়জীবনের শুরুটাও হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকে। মাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসে প্রথম নাটকের শুটিং করেন তিনি। নাটকটির নাম ছিল ‘তুমি থাকো সিন্ধু পাড়ে’।
নাটকটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন মাহফুজ আহমেদ। অভিনয়ের আগে মাহফুজের কাজ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা না থাকলেও পরিবারের কাছ থেকে তাঁর জনপ্রিয়তার কথা শুনেছিলেন মেহজাবীন। নতুন পরিবেশে প্রথম কাজ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা নার্ভাস ছিলেন তিনি।
সেই প্রথম নাটকের জন্য মেহজাবীন পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন ১৫ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে তিনি ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।
মেহজাবীন → প্রথম পারিশ্রমিক: ১৫ হাজার টাকা
কেয়া পায়েলের প্রথম নাটকে ১০ হাজার টাকা
অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের অভিনয়ে আসার পেছনে ছিল অনেকটা আকস্মিক ঘটনা। শুরুতে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। শখের বশে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে যাওয়ার পর পরিচিতি তৈরি হয় কয়েকজন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে।
এরপর নাটকে অভিনয়ের সুযোগ আসে। ২০১৮ সালে ‘একটাই আমার তুমি’ নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নাট্যাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আফরান নিশো।
প্রথম নাটকের জন্য কেয়া পায়েল পেয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মধ্যে পরিচিতি তৈরি করেন।
কেয়া পায়েল → প্রথম পারিশ্রমিক: ১০ হাজার টাকা
পাঁচ তারকার শুরুর গল্পে বড় পার্থক্য
এই পাঁচজন অভিনয়শিল্পীর প্রথম পারিশ্রমিক পাশাপাশি রাখলে সময়ের পরিবর্তনটিও স্পষ্ট হয়। কবরী ও রোজিনার অভিনয়জীবনের শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদনশিল্পের অর্থনৈতিক কাঠামো বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক ছোট ছিল।
অন্যদিকে পূর্ণিমা, মেহজাবীন ও কেয়া পায়েল যখন অভিনয়ে আসেন, তখন টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে শিল্পীদের পারিশ্রমিকের কাঠামো অনেকটাই বদলে গেছে। ফলে তাঁদের প্রথম আয় তুলনামূলকভাবে বড় ছিল।
| তারকা | মাধ্যম/কাজ | প্রথম পারিশ্রমিক |
|---|---|---|
| কবরী | ‘সুতরাং’ | ১,১১১ টাকা |
| রোজিনা | ‘জানোয়ার’ | ১০ টাকা |
| পূর্ণিমা | ‘এ জীবন তোমার আমার’ | ১ লাখ টাকা |
| মেহজাবীন | ‘তুমি থাকো সিন্ধু পাড়ে’ | ১৫ হাজার টাকা |
| কেয়া পায়েল | ‘একটাই আমার তুমি’ | ১০ হাজার টাকা |
প্রথম পারিশ্রমিক কেন এত স্মরণীয়?
একজন শিল্পীর কাছে প্রথম পারিশ্রমিকের মূল্য কেবল টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা যায় না। এটি অনেক সময় তাঁর পেশাগত জীবনের প্রথম স্বীকৃতি হয়ে থাকে। কেউ পরিবারের হাতে সেই অর্থ তুলে দেন, কেউ নিজের প্রয়োজন মেটান, আবার কেউ পরবর্তী সময়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেই দিনের কথা বলেন।
কবরী ও পূর্ণিমা তাঁদের প্রথম উপার্জন পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। রোজিনার কাছে ১০ টাকার প্রথম সম্মানীও ছিল বিশেষ। একইভাবে মেহজাবীন ও কেয়া পায়েলের প্রথম পারিশ্রমিক তাঁদের অভিনয়জীবনের শুরুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে।
শেষ কথা
আজকের জনপ্রিয়তার জায়গায় পৌঁছানোর আগে প্রতিটি তারকার পথচলার শুরু ছিল আলাদা। কারও প্রথম পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ১০ টাকা, কারও ১,১১১ টাকা, আবার কেউ প্রথম কাজেই পেয়েছেন ১ লাখ টাকা। অর্থের অঙ্কে যতই পার্থক্য থাকুক, এই প্রথম উপার্জনগুলো প্রত্যেক শিল্পীর ক্যারিয়ারের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: প্রকাশিত সাক্ষাৎকার ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিবেদন।

