ব্যবসার মুনাফার ১% সমাজের জন্য ব্যয়ের প্রস্তাব, আসছে নতুন CSR নীতিমালা
তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, বিমা ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যয় বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ
দেশের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর-পূর্ব মুনাফার অন্তত ১ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা বা CSR কার্যক্রমে ব্যয় বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত নীতিমালা কার্যকর হলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, সরকারি বা সরকারনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এর আওতায় আসতে পারে। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার বেশি ব্যবসা করা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হবে।
এক নজরে প্রস্তাবিত নীতিমালা
- CSR ব্যয়: কর-পূর্ব মুনাফার অন্তত ১ শতাংশ
- নীতিমালার মেয়াদ: প্রাথমিকভাবে ৫ বছর
- আওতায় আসতে পারে: বড় কোম্পানি, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
- বিদেশি প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি
- বার্ষিক প্রতিবেদন: CSR ব্যয় ও ফলাফল প্রকাশ করতে হবে
- রাজনৈতিক অনুদান: CSR ব্যয় হিসেবে গণ্য হবে না
কেন নতুন নীতিমালা?
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দারিদ্র্য হ্রাসসহ নানা খাতে অর্থ ব্যয় করে আসছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের CSR কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত একটি অভিন্ন কাঠামো নেই।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা এবং এসব ব্যয়ের সামাজিক প্রভাব আরও কার্যকর করা।
CSR বলতে কী বোঝায়?
CSR বা Corporate Social Responsibility হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বা অর্থ ব্যয় করা। এর লক্ষ্য শুধু ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, সমাজের ওপর প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক প্রভাব বাড়ানো।
কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে?
খসড়া নীতিমালায় তুলনামূলক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে CSR ব্যয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা কোম্পানি।
এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন বা সরকারনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার বেশি ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় আসতে পারে।
তবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত নীতিমালায় বিবেচনা করা হতে পারে।
কোথায় খরচ করা যাবে CSR-এর অর্থ?
প্রস্তাবিত কাঠামোয় CSR-এর অর্থ ব্যয়ের জন্য বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতা।
এ ছাড়া দারিদ্র্য কমানো, জীবিকার সুযোগ তৈরি, নারী ও শিশু উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং প্রবীণদের কল্যাণেও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
আরও যেসব খাত অগ্রাধিকার পাবে
- পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ কমানো
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- মানবিক সহায়তা
- কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা
- গ্রামীণ উন্নয়ন
- গবেষণা ও উদ্ভাবন
- সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ
- ক্রীড়া উন্নয়ন
- সড়ক ও জননিরাপত্তা
রাজনৈতিক কাজে CSR-এর অর্থ নয়
খসড়া নীতিমালায় CSR ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছু স্পষ্ট সীমাবদ্ধতাও রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ব্যবসায়িক ব্যয় বা অবকাঠামো নির্মাণের খরচকে CSR হিসেবে দেখানো যাবে না।
এ ছাড়া বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ব্যয় এবং কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেওয়া অর্থও CSR ব্যয়ের আওতায় পড়বে না। অর্থাৎ সামাজিক দায়বদ্ধতার অর্থকে ব্যবসায়িক প্রচার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
যেসব ব্যয় CSR হিসেবে গণ্য হবে না
- প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ব্যবসায়িক খরচ
- সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয়
- বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা
- রাজনৈতিক দলকে অনুদান
- রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয়
খরচ না হলে কী হবে?
কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত অর্থের পুরোটা একটি অর্থবছরে ব্যয় করতে না পারলে তার কারণ, অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে তা ব্যবহার করা হবে—এসব তথ্য বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
খসড়ায় পরবর্তী অর্থবছরে অব্যয়িত অর্থ ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত অর্থ খরচ করার জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা করার সুযোগ থাকবে।
CSR-এর হিসাব প্রকাশ করতে হবে
প্রস্তাবিত নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছতা। আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর CSR কার্যক্রম নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।
প্রতিবেদনে আগের তিন অর্থবছরের গড় কর-পূর্ব মুনাফা, নির্ধারিত CSR ব্যয়ের পরিমাণ, প্রকৃত ব্যয়, অব্যয়িত অর্থ ও তার কারণ, প্রধান প্রকল্প, ব্যয়ের খাত এবং উপকারভোগীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার প্রকাশ করার বিধানও রাখা হয়েছে।
শুধু টাকা খরচ করলেই সাফল্য নয়
প্রস্তাবিত নীতিমালায় CSR-এর সাফল্য শুধু কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা দিয়ে বিচার না করার কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রকল্পের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাবও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।
জাতীয় CSR সমন্বয় কমিটি
CSR কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি জাতীয় CSR সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা থাকতে পারেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সামগ্রিক CSR কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের ওপর CSR কার্যক্রমের চূড়ান্ত দায়িত্ব রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরদের বর্তমান ব্যবস্থা
বাংলাদেশে কিছু খাতে ইতোমধ্যে CSR-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন, মোবাইল অপারেটরদের মোট আয়ের ১ শতাংশ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর CSR কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০৯ সাল থেকে ব্যাংকগুলোকে CSR কার্যক্রমে উৎসাহিত করে আসছে এবং ২০২২ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি CSR নীতিমালা প্রণয়ন করে।
কর ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে
CSR কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০১০ সাল থেকে নির্দিষ্ট কিছু CSR ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বিদ্যমান এসব ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ব্যবসায়ীদের কী আপত্তি?
ব্যবসায়িক সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্যোগটিকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম যেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক বা আর্থিক চাপ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ এসেছে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক উদ্যোগটিকে ইতিবাচক বললেও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন জটিলতা তৈরি না করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি কর-পূর্ব মুনাফার ভিত্তিতে CSR ব্যয় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন।
এখনো চূড়ান্ত নয়
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতিমালাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত নেওয়ার পর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানোর কথা রয়েছে।
জাতীয় CSR পুরস্কারের প্রস্তাব
ভালো ও কার্যকর CSR উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর জাতীয় CSR পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ নয়, সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম প্রকল্পগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ বা অন্যান্য খাতে এমন প্রকল্প নিতে পারবে, যার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুফল রয়েছে।
স্থানীয় মানুষের মতামতও গুরুত্ব পাবে
CSR প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার হিসেবে নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
এর ফলে একটি কোম্পানি নিজে সরাসরি প্রকল্প পরিচালনা না করে অভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার করে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে।
নীতিমালার মেয়াদ পাঁচ বছর
খসড়া অনুযায়ী, প্রস্তাবিত CSR নীতিমালা প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ের পর এর কার্যকারিতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
নীতিমালাটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে ব্যবসায়ী সংগঠন, কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বর্তমান খসড়ার কিছু বিধান পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
শেষ কথা
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মুনাফার একটি অংশ সমাজের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করতেই নতুন CSR নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত কাঠামোয় কর-পূর্ব মুনাফার ১ শতাংশ CSR-এ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য হ্রাস, পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি, গবেষণা ও মানবিক সহায়তার মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অংশীজনদের মতামত নেওয়ার পর এর চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে।
সারসংক্ষেপ: বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের CSR কার্যক্রমকে একটি অভিন্ন কাঠামোয় আনতে চায় সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী কর-পূর্ব মুনাফার অন্তত ১ শতাংশ সামাজিক কাজে ব্যয় করতে হবে। তবে চূড়ান্ত নীতিমালা অনুমোদনের আগে এর বিভিন্ন ধারা পরিবর্তিত হতে পারে।

