কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে স্মরণসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লা হিল জামান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মান্নান মিঞা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহারিয়ার হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ রাশেদুল ইসলামের বাবা বাচ্চু মিয়া এবং শহীদ গোলাম রব্বানীর বাবা সাইদুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি মিজানুর ও মুতাসিম বিল্লাহ তানিম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁদের অবদান জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শহীদ রাশেদুল ইসলামের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, তাঁর পাঁচ ছেলের মধ্যে রাশেদুল ছিল সবচেয়ে ছোট এবং পরিবারের সবার আদরের। আজও তিনি বিশ্বাস করতে পারেন না, ছেলে আর ফিরে আসবে না। সন্ধ্যা নামলেই মনে হয়, এই বুঝি রাশেদুল ঘরে ফিরবে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সন্তানের মৃত্যুর এতদিন পরও হত্যার বিচার না পাওয়া একজন বাবার জন্য সবচেয়ে বড় কষ্ট। তিনি শুধু তাঁর ছেলের নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
একইভাবে শহীদ গোলাম রব্বানীর বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, সন্তান হারানোর শোক কোনোদিন শেষ হওয়ার নয়। তবে বিচার নিশ্চিত হলে অন্তত বুকের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। তিনি বলেন, তাঁরা প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চান যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোক বহন করতে না হয়।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে স্মরণসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লা হিল জামান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মান্নান মিঞা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহারিয়ার হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ রাশেদুল ইসলামের বাবা বাচ্চু মিয়া এবং শহীদ গোলাম রব্বানীর বাবা সাইদুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি মিজানুর ও মুতাসিম বিল্লাহ তানিম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁদের অবদান জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শহীদ রাশেদুল ইসলামের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, তাঁর পাঁচ ছেলের মধ্যে রাশেদুল ছিল সবচেয়ে ছোট এবং পরিবারের সবার আদরের। আজও তিনি বিশ্বাস করতে পারেন না, ছেলে আর ফিরে আসবে না। সন্ধ্যা নামলেই মনে হয়, এই বুঝি রাশেদুল ঘরে ফিরবে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সন্তানের মৃত্যুর এতদিন পরও হত্যার বিচার না পাওয়া একজন বাবার জন্য সবচেয়ে বড় কষ্ট। তিনি শুধু তাঁর ছেলের নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
একইভাবে শহীদ গোলাম রব্বানীর বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, সন্তান হারানোর শোক কোনোদিন শেষ হওয়ার নয়। তবে বিচার নিশ্চিত হলে অন্তত বুকের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। তিনি বলেন, তাঁরা প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চান যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোক বহন করতে না হয়।

আপনার মতামত লিখুন