রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
মানচিত্র

জনপ্রতিনিধিদের রূপবদল ও গ্রামীণ উন্নয়ন: কাঠগড়ায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভূমিকা। ৪নং ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদ, কুড়িগ্রাম সদর কুড়িগ্রাম



জনপ্রতিনিধিদের রূপবদল ও গ্রামীণ উন্নয়ন: কাঠগড়ায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভূমিকা। ৪নং ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদ, কুড়িগ্রাম সদর কুড়িগ্রাম

​নিজস্ব প্রতিবেদক:মো: রাজু আহমেদ 

আমি ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সকল সম্মানিত ভোটারদের কথা বলছি, গ্রামীণ জনপদের ভাগ্য বদল ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে ও পরে জনপ্রতিনিধিদের আচরণ এবং রূপের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। নির্বাচনের আগে দেওয়া বড় বড় ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি ভোটের পর যেন কর্পূরের মতো উড়ে যায়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গ্রামীণ উন্নয়ন হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে বদলে যাচ্ছে কেবল জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের পারিবারিক ও বংশগত ভাগ্য। এই অবস্থায় গ্রামীণ স্বৈরাচার ও বৈষম্য রুখতে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

​‘নির্বাচনের আগে লক্ষ টাকার ইশতেহার, পরে বাজেট নাই অজুহাত’​নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। "নির্বাচনের আগে অমুক রাস্তা করে দেবো, তমুক রাস্তা পাকা করব, অমুককে সরকারি ঘর দেবো, তমুককে কার্ড করে দেবো"—এমন নানা চটকদার প্রতিশ্রুতি আর মিষ্টি কথার ফুলঝুরি ছড়ান তারা।

​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নির্বাচনের আগে নিজের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে পোস্টার, ব্যানার আর উঠান বৈঠক করতে পারলেও, নির্বাচনের পর তাদের রূপ বদলে যায়। চেয়ারে বসার পর এলাকার একটা কাদা রাস্তা ঠিক করার জন্য ২ হাজার টাকা খরচ করতেও তাদের গায়ে জ্বর আসে! সাধারণ মানুষ রাস্তার দাবি নিয়ে গেলে মুখস্থ জবাব আসে—"এখন তো বাজেট নাই, বাজেট আসলে কাজ হবে।" অথচ এই জনপ্রতিনিধিরাই নির্বাচনের আগে কোটি টাকার উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

​দুই বাড়ির জন্য ১২০ ফিটের পাকা রাস্তা, হাজার মানুষের কপালে কাদা!

হ্যা আমি ঘোগাদহ ইউনিয়নের ১নং ওয়াডের কুমার পাড়া রাস্তার অবস্থা দেখলে মাথা খারাপ হবে, তার কথা বলছি।

এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের স্পষ্ট কথা—"আমরা একবারে কোটি টাকার বাজেট এনে পাকা রাস্তা চাই না, আমরা চাই আমাদের চলমান দুর্ভোগের সমাধান।"

​নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ভোটের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করেন, দিন-রাত পায়ে হেঁটে কাদা মাখেন আর বড় বড় কথা দেন যে, "অমুক সমস্যার সমাধান করবেন, তমুক ব্যবস্থা করে দেবেন।" কিন্তু দুঃখের বিষয়, জেতার পর সেইসব জনপ্রতিনিধিদের আর কোনো খোঁজ থাকে না। বর্ষাকালে একটা কাঁচা রাস্তা যখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, একটা ভাঙা রাস্তা যখন মরণফাঁদে পরিণত হয়—তখন তারা সামান্য দুই-তিন হাজার টাকা খরচ করে একটু রাবিশ বা বালু ফেলে রাস্তাটা চলাচলের উপযোগী করার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখান না।


​সাধারণ মানুষ এখন আর বোকা নয়, তারা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন—"নির্বাচনের আগে লাখ টাকা ওড়াবেন, আর নির্বাচনের পরে একটা কাঁচা-ভাঙা রাস্তার কাদা দূর করতে পারবেন না—এইরকম ঠুঁটো জগন্নাথ প্রতিনিধি আমরা আর চাই না।"



​স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এর চেয়ে বড় লজ্জাজনক উদাহরণ আর হতে পারে না। দেখা যায়, কোনো এক প্রভাবশালী চেয়ারম্যান বা মেম্বারের আত্মীয়ের দুই-তিনটি বাড়ির লোকজনের চলাচলের সুবিধার জন্য সরকারি বরাদ্দে রাতারাতি ১২০ ফিটের চকচকে পাকা রাস্তা তৈরি হয়ে যায়।


​অথচ তার বিপরীতে, যে রাস্তা দিয়ে এলাকার ২ থেকে ৩ হাজার সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে, বর্ষা এলে যে রাস্তা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না, সেই রাস্তার দিকে ফিরেও তাকানো হয় না। হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগের সেই রাস্তায় এক গাড়ি রাবিশ বা সামান্য বালু ফেলার ন্যূনতম উদ্যোগও নেন না তারা। জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের বাড়ির কিংবা আত্মীয়দের বাড়ির রাস্তা যখন ভিআইপি রূপ নেয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। এটা কেমন প্রতিনিধি? জনগণের টাকায় কেন শুধু আত্মীয়দের সুখ কেনা হবে?



​দুর্নীতির খতিয়ান: 

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এলাকার কাঁচা রাস্তাঘাট কাঁচাই থেকে যায়, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের কাঁচা বাড়ি রাতারাতি পাকা হয়ে যায়। গ্রামীণ জনপদে গড়ে ওঠে বিশাল বিশাল দালানকোটা।

​গ্রামীণ সালিশ ও ‘স্বজনপ্রীতি’র বিষবাষ্প

​আজকের দিনে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো সরকারি সুযোগ-সুবিধার বণ্টন ব্যবস্থা। সরকারি ঘর, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড, কিংবা কর্মসংস্থানের নানা সুযোগ সুবিধাগুলো সাধারণ ও প্রকৃত গরিব মানুষেরা পায় না। এগুলো বণ্টন করা হয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিজস্ব আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় অন্ধ অনুসারীদের মাঝে। যার ফলে ধনী আরও ধনী হচ্ছে, আর সাধারণ অসহায় জনগণ অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। গরিব মানুষ যেন টাকার অভাবে বা প্রভাবশালীদের চাপে বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাম্য বিবাদ বা শালিস-বিচারে কোনো দলের বা প্রভাবশালীর পক্ষ না নিয়ে, একদম নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

​শিক্ষা, যুবসমাজ ও আগামীর ইউনিয়ন গঠনের রূপরেখা

একটি ইউনিয়নকে আদর্শ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কেবল রাস্তাঘাট নির্মাণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা:

​শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও ঝরে পড়া রোধ: ইউনিয়নের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরে পড়া রোধে জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি ও খোঁজখবর রাখা উচিত।

কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান: 

এলাকার বেকার যুবকদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যাতে যুবসমাজ মাদকের দিকে পা না বাড়ায়।

​হবু প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা: 

যুগ এখন ডিজিটালের ​আজ যারা ক্ষমতায় থেকে জনগণের সাথে দূরত্ব তৈরি করছেন, তারা হয়তো বুঝতে পারছেন না যে আধুনিক যুগ ডিজিটাল প্রচারণার যুগ। বর্তমানে সাধারণ মানুষ আর অন্ধের মতো বা শুধু মার্কার জোয়ারে ভোট দেয় না। মানুষ এখন সচেতন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেখে কার পরিকল্পনা কতটা গোছানো এবং কে তাদের সুখ-দুঃখ

আপনার মতামত লিখুন

মানচিত্র

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


জনপ্রতিনিধিদের রূপবদল ও গ্রামীণ উন্নয়ন: কাঠগড়ায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভূমিকা। ৪নং ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদ, কুড়িগ্রাম সদর কুড়িগ্রাম

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

​নিজস্ব প্রতিবেদক:মো: রাজু আহমেদ 

আমি ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সকল সম্মানিত ভোটারদের কথা বলছি, গ্রামীণ জনপদের ভাগ্য বদল ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে ও পরে জনপ্রতিনিধিদের আচরণ এবং রূপের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। নির্বাচনের আগে দেওয়া বড় বড় ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি ভোটের পর যেন কর্পূরের মতো উড়ে যায়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গ্রামীণ উন্নয়ন হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে বদলে যাচ্ছে কেবল জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের পারিবারিক ও বংশগত ভাগ্য। এই অবস্থায় গ্রামীণ স্বৈরাচার ও বৈষম্য রুখতে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

​‘নির্বাচনের আগে লক্ষ টাকার ইশতেহার, পরে বাজেট নাই অজুহাত’​নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। "নির্বাচনের আগে অমুক রাস্তা করে দেবো, তমুক রাস্তা পাকা করব, অমুককে সরকারি ঘর দেবো, তমুককে কার্ড করে দেবো"—এমন নানা চটকদার প্রতিশ্রুতি আর মিষ্টি কথার ফুলঝুরি ছড়ান তারা।

​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নির্বাচনের আগে নিজের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে পোস্টার, ব্যানার আর উঠান বৈঠক করতে পারলেও, নির্বাচনের পর তাদের রূপ বদলে যায়। চেয়ারে বসার পর এলাকার একটা কাদা রাস্তা ঠিক করার জন্য ২ হাজার টাকা খরচ করতেও তাদের গায়ে জ্বর আসে! সাধারণ মানুষ রাস্তার দাবি নিয়ে গেলে মুখস্থ জবাব আসে—"এখন তো বাজেট নাই, বাজেট আসলে কাজ হবে।" অথচ এই জনপ্রতিনিধিরাই নির্বাচনের আগে কোটি টাকার উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

​দুই বাড়ির জন্য ১২০ ফিটের পাকা রাস্তা, হাজার মানুষের কপালে কাদা!

হ্যা আমি ঘোগাদহ ইউনিয়নের ১নং ওয়াডের কুমার পাড়া রাস্তার অবস্থা দেখলে মাথা খারাপ হবে, তার কথা বলছি।

এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের স্পষ্ট কথা—"আমরা একবারে কোটি টাকার বাজেট এনে পাকা রাস্তা চাই না, আমরা চাই আমাদের চলমান দুর্ভোগের সমাধান।"

​নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ভোটের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করেন, দিন-রাত পায়ে হেঁটে কাদা মাখেন আর বড় বড় কথা দেন যে, "অমুক সমস্যার সমাধান করবেন, তমুক ব্যবস্থা করে দেবেন।" কিন্তু দুঃখের বিষয়, জেতার পর সেইসব জনপ্রতিনিধিদের আর কোনো খোঁজ থাকে না। বর্ষাকালে একটা কাঁচা রাস্তা যখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, একটা ভাঙা রাস্তা যখন মরণফাঁদে পরিণত হয়—তখন তারা সামান্য দুই-তিন হাজার টাকা খরচ করে একটু রাবিশ বা বালু ফেলে রাস্তাটা চলাচলের উপযোগী করার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখান না।


​সাধারণ মানুষ এখন আর বোকা নয়, তারা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন—"নির্বাচনের আগে লাখ টাকা ওড়াবেন, আর নির্বাচনের পরে একটা কাঁচা-ভাঙা রাস্তার কাদা দূর করতে পারবেন না—এইরকম ঠুঁটো জগন্নাথ প্রতিনিধি আমরা আর চাই না।"



​স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এর চেয়ে বড় লজ্জাজনক উদাহরণ আর হতে পারে না। দেখা যায়, কোনো এক প্রভাবশালী চেয়ারম্যান বা মেম্বারের আত্মীয়ের দুই-তিনটি বাড়ির লোকজনের চলাচলের সুবিধার জন্য সরকারি বরাদ্দে রাতারাতি ১২০ ফিটের চকচকে পাকা রাস্তা তৈরি হয়ে যায়।


​অথচ তার বিপরীতে, যে রাস্তা দিয়ে এলাকার ২ থেকে ৩ হাজার সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে, বর্ষা এলে যে রাস্তা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না, সেই রাস্তার দিকে ফিরেও তাকানো হয় না। হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগের সেই রাস্তায় এক গাড়ি রাবিশ বা সামান্য বালু ফেলার ন্যূনতম উদ্যোগও নেন না তারা। জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের বাড়ির কিংবা আত্মীয়দের বাড়ির রাস্তা যখন ভিআইপি রূপ নেয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। এটা কেমন প্রতিনিধি? জনগণের টাকায় কেন শুধু আত্মীয়দের সুখ কেনা হবে?



​দুর্নীতির খতিয়ান: 

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এলাকার কাঁচা রাস্তাঘাট কাঁচাই থেকে যায়, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের কাঁচা বাড়ি রাতারাতি পাকা হয়ে যায়। গ্রামীণ জনপদে গড়ে ওঠে বিশাল বিশাল দালানকোটা।

​গ্রামীণ সালিশ ও ‘স্বজনপ্রীতি’র বিষবাষ্প

​আজকের দিনে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো সরকারি সুযোগ-সুবিধার বণ্টন ব্যবস্থা। সরকারি ঘর, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড, কিংবা কর্মসংস্থানের নানা সুযোগ সুবিধাগুলো সাধারণ ও প্রকৃত গরিব মানুষেরা পায় না। এগুলো বণ্টন করা হয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিজস্ব আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় অন্ধ অনুসারীদের মাঝে। যার ফলে ধনী আরও ধনী হচ্ছে, আর সাধারণ অসহায় জনগণ অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। গরিব মানুষ যেন টাকার অভাবে বা প্রভাবশালীদের চাপে বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাম্য বিবাদ বা শালিস-বিচারে কোনো দলের বা প্রভাবশালীর পক্ষ না নিয়ে, একদম নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

​শিক্ষা, যুবসমাজ ও আগামীর ইউনিয়ন গঠনের রূপরেখা

একটি ইউনিয়নকে আদর্শ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কেবল রাস্তাঘাট নির্মাণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা:

​শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও ঝরে পড়া রোধ: ইউনিয়নের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরে পড়া রোধে জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি ও খোঁজখবর রাখা উচিত।

কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান: 

এলাকার বেকার যুবকদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যাতে যুবসমাজ মাদকের দিকে পা না বাড়ায়।

​হবু প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা: 

যুগ এখন ডিজিটালের ​আজ যারা ক্ষমতায় থেকে জনগণের সাথে দূরত্ব তৈরি করছেন, তারা হয়তো বুঝতে পারছেন না যে আধুনিক যুগ ডিজিটাল প্রচারণার যুগ। বর্তমানে সাধারণ মানুষ আর অন্ধের মতো বা শুধু মার্কার জোয়ারে ভোট দেয় না। মানুষ এখন সচেতন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেখে কার পরিকল্পনা কতটা গোছানো এবং কে তাদের সুখ-দুঃখ


মানচিত্র

সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ মানচিত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত