প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
গোয়ালডিহি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজে নিয়োগ ও এমপিও নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধিগোয়ালডিহি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজে নিয়োগ ও এমপিও নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি|দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, এমপিওভুক্তি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কলেজটির টাইপিং ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. রেয়াজ উদ্দিন শাহ| একই বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়েছে| অভিযোগকারী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন|লিখিত অভিযোগে মো. রেয়াজ উদ্দিন শাহ দাবি করেন, ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তিনি টাইপিং ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে কলেজে যোগদান করেন| তাঁর অভিযোগ, নিয়োগের সময় তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল| তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে দায়িত্ব পালন করলেও এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেননি এবং সরকারি বেতন-ভাতাও পাননি বলে দাবি করেন|অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, কলেজটি ২০১০ সালে জিওভুক্ত হলেও পরে তা বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের আদেশে পুনর্বহাল হয়| অভিযোগকারীর দাবি, এই সময়ের মধ্যে কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিতে অসঙ্গতি সৃষ্টি করা হয়| অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ সালের নিয়োগ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পরিবর্তন করে ২০০৪ সালের নামে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বাছাই কমিটির নথি এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ|অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, কয়েকজন শিক্ষকের নিয়োগের সময় তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সময়গত অসামঞ্জস্য রয়েছে| এ ছাড়া কিছু পদে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে| এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি|আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, কলেজের বিভিন্ন পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে| অভিযোগকারীর দাবি, তাঁকেও বিভিন্ন সময়ে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়| পরে তাঁর পক্ষে পাঠানো একটি লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়, নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির আশ্বাসের কথা বলে মোট পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে| নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টির সমাধান অথবা অর্থ ফেরতের দাবি জানানো হয়েছে| অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে|অভিযোগকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন| তাঁর আবেদনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বাছাই কমিটির নথি, শিক্ষাগত সনদ, এমপিও-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য রেকর্ড যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে|অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোয়ালডিহি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবর রহমানের সঙ্গে ০১৭১২৮১২৯৫৩ ন¤^রে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি| ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে|এ বিষয়ে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও এমপিও সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি| অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সেটিও তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন|উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে বর্ণিত তথ্য অভিযোগকারী কর্তৃক দাখিল করা লিখিত অভিযোগ ও লিগ্যাল নোটিশের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে| অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ|
কপিরাইট © ২০২৬ মানচিত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত