প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ১০ বছরের শারমিন, চিকিৎসায় প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা: সাহায্যের আবেদন
মিনহাজুল ইসলাম সীমান্ত, স্টাফ রিপোর্টার: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের রাধাবল্লভ ব্যাপীর হাট এলাকার ১০ বছর বয়সী শিশু শারমিন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছে। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছে তার পরিবার।শারমিন স্থানীয় রাধাবল্লভ কালীরপাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে এলাকার ক্ষুদ্র কলা ব্যবসায়ী শাহ আলম ও আমেনা বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। সামান্য আয়ে যেখানে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেয়ের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তার বাবার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে শারমিনের শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তাকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় থেরাপি প্রদান করা গেলে শারমিনকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তবে এই চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন।ইতোমধ্যে মেয়ের চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল যা ছিল তার প্রায় সবই ব্যয় হয়ে গেছে। বর্তমানে চরম অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় নিরুপায় হয়ে শারমিনকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন তার বাবা-মা।এ বিষয়ে এলাকার যুবক তুহিন আলম মুকুল জানান, “একটি পরিবার তাদের আদরের সন্তানকে চোখের সামনে ধীরে ধীরে নিভে যেতে দেখছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে শারমিনের চিকিৎসা সম্ভব হবে এবং সে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।” তিনি আরও জানান, শারমিনের চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা কামনা করছেন।অসহায় বাবা শাহ আলম তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মানবিক ও দানশীল মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একই সাথে এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শিশু শারমিনের জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের মানবিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। সবাই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে ফুটফুটে এই শিশুটি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
কপিরাইট © ২০২৬ মানচিত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত