শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
মানচিত্র

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘মা’ ইলিশ নিধনের মহোৎসব



নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘মা’ ইলিশ নিধনের মহোৎসব

বরিশালের বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে ‘মা’ ইলিশ নিধনের মহোৎসব। রাত-দিন প্রকাশ্যে শত শত নৌকায় অসাধু জেলেরা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গোপনে ইলিশ ধরার আয়োজন করে রেখেছে জেলেরা। শতাধিক নৌকা ও জাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুধুমাত্র নিষিদ্ধ সময়ের মাছ ধরার জন্য। অভিযানের সময় কোনো নৌকা বা জাল জব্দ হলে যেন বিকল্প দিয়ে আবারও শিকারে নামা যায়—সেজন্য অনেক জেলে একাধিক নৌকা ও জাল প্রস্তুত রেখেছেন।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামতসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড়ে ব্যস্ত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, বছরের অন্য সময় সাগর থেকে নদীতে আসা ইলিশ ভাটি অঞ্চলে ধরা পড়ে যায়, ফলে এ সময়টাতেই নদীতে বেশি মাছ মেলে।

এক জেলে বলেন,

“এক দিন মাছ ধরতে পারলেই ৩০–৪০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করা যায়। এতে জালের খরচ উঠে আসে। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ই বেশি মাছ ধরি।”


আরেক জেলে জানান, সংসারের খরচ, ঋণের কিস্তি ও দাদনের চাপে তারা বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন। সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল যথেষ্ট নয়, তাছাড়া অনেক সময় প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে অন্য পেশার মানুষ সেই সুবিধা পেয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞার সময় ধরা ইলিশ স্থানীয় আড়তে বিক্রি করা হতো না, গোপনে বাইরে পাচার করা হতো। এ বছরও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে আরও বলেন,


“আমরা জানি এটা আইনবিরোধী, কিন্তু না ধরলে পরিবার চালানোই সম্ভব না।”

অভিযানের নামে চলছে ‘লুকোচুরি খেলা’। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এবং সহায়তা না পাওয়ায় জেলেদের এই অবাধ মাছ শিকার যেন থামছেই না। 

আপনার মতামত লিখুন

মানচিত্র

শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬


নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘মা’ ইলিশ নিধনের মহোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

বরিশালের বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে ‘মা’ ইলিশ নিধনের মহোৎসব। রাত-দিন প্রকাশ্যে শত শত নৌকায় অসাধু জেলেরা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গোপনে ইলিশ ধরার আয়োজন করে রেখেছে জেলেরা। শতাধিক নৌকা ও জাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুধুমাত্র নিষিদ্ধ সময়ের মাছ ধরার জন্য। অভিযানের সময় কোনো নৌকা বা জাল জব্দ হলে যেন বিকল্প দিয়ে আবারও শিকারে নামা যায়—সেজন্য অনেক জেলে একাধিক নৌকা ও জাল প্রস্তুত রেখেছেন।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই জেলেরা জাল ও নৌকা মেরামতসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড়ে ব্যস্ত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, বছরের অন্য সময় সাগর থেকে নদীতে আসা ইলিশ ভাটি অঞ্চলে ধরা পড়ে যায়, ফলে এ সময়টাতেই নদীতে বেশি মাছ মেলে।

এক জেলে বলেন,

“এক দিন মাছ ধরতে পারলেই ৩০–৪০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করা যায়। এতে জালের খরচ উঠে আসে। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ই বেশি মাছ ধরি।”


আরেক জেলে জানান, সংসারের খরচ, ঋণের কিস্তি ও দাদনের চাপে তারা বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন। সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল যথেষ্ট নয়, তাছাড়া অনেক সময় প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে অন্য পেশার মানুষ সেই সুবিধা পেয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞার সময় ধরা ইলিশ স্থানীয় আড়তে বিক্রি করা হতো না, গোপনে বাইরে পাচার করা হতো। এ বছরও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে আরও বলেন,


“আমরা জানি এটা আইনবিরোধী, কিন্তু না ধরলে পরিবার চালানোই সম্ভব না।”

অভিযানের নামে চলছে ‘লুকোচুরি খেলা’। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এবং সহায়তা না পাওয়ায় জেলেদের এই অবাধ মাছ শিকার যেন থামছেই না। 


মানচিত্র

বিকশিত হোক সত্য

কপিরাইট © ২০২৬ মানচিত্র । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত